পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪০
সিরাজদ্দৌলা।

বড়বাটীর দুর্গজয়-কাহিনী বর্ণনা করিবার সময়ে মুসলমান ইতিহাস লেখক তাহার সমুচিত প্রশংসা করিয়া গিয়াছেন। তাঁহাকে রণপণ্ডিত করিবেন বলিয়াই আলিবর্দ্দী শৈশবে সেনাচালনার ভার প্রদান করিয়াছিলেন। * এই সকল ঐতিহাসিক প্রমাণের উল্লেখ করিয়াও নবাবী আমলের বাঙ্গালার ইতিহাসলেখক লিখিয়াছেনঃ- “অন্য শিক্ষার অভাব হইলেও, যুদ্ধ শিক্ষায় সিরাজের সবিশেষ সুবিধা ছিল; উচ্ছল সিরাজ, এ সুযোগেরও সদ্ব্যবহার করিতে পারেন নাই। সচরাচর প্রচলিত ইতিহাসে সিরাজ রণভীরু বলিয়া কলঙ্কিত। সে কলঙ্কের প্রমাণাভাব। তথাপি প্রচলিত কলঙ্কের সমর্থন বাসনায় বাঙ্গালী ইতিহাসলেখক মানবলে যাহা লিখিয়াছেন, তাহার বিস্তৃত সমালোচনা অনাবশ্যক।

 বিদ্রোহী আফগানগণ বিহার অঞ্চল লুণ্ঠন করিয়া পাটনার ধনাঢ্য অধিবামীদিগের, লাঞ্ছনার একশেষ করিয়া যথাশক্তি নজর আদায় করিয়া লইল এবং জয়েনউদ্দীনের রাজকোষ হস্তগত করিয়া সৈন্যবল বৃদ্ধি করিতে আরম্ভ করিল; আলিবর্দ্দী সসৈন্যে যুদ্ধযালা করিয়াছেন। সংবাদ পাইবামাত্র বিদ্রোহিদল স্বপক্ষ সবল করিবার আশায় মহারাষ্ট্র দিগকে আহ্বান করিতে লাগিল। মহারাষ্ট্রসেনাও লাভের গন্ধ পাইয়া আনলে পাটনা অঞ্চলে ধাবিত হইল। আলিবর্দ্দী ধরিত- গমনে ভাগলপুরের নিকটে মহারাষ্ট্রদলকে আক্রমণ করতে। তাহারা সম্মুখ যুদ্ধ চাহে না; তাড়া পাইয়া বনপথে পলায়ন ত্রুটি করিল না। আলিবর্দ্দী সসৈন্যে মুঙ্গেরে আসিয়া উপনীত হইল

 * His intention in this was to accustom the young man. face an enemy and to command troops.-Mustafa's Mutakheri vol. I 606.