পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৯
ইংরাজ কর্তৃক সিরাজদ্দৌলার অভ্যর্থনা।

অনুনয় বিনয় করিয়া ১২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দিয়া বাণিজ্যাধিকার ফিরিয়া পাইলেন।[১]

 সিরাজদ্দৌলা যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত হইয়াই রাজ্যপরিদর্শনে বাহির হইলেন। সে কালের ইংরাজদিগের সেরূপ সৈন্যবল ছিল না; অনুরোধ উপরোধে কার্যোদ্ধার না হইলে, তোষামোদ ও উৎকোচের আশ্রয় গ্রহণ করিতে হইত; বিলাতের কর্ত্তৃপক্ষগণও তাহারই সমর্থন করিতেন। নবাব-সরকারে কাহারও পদোন্নতি হইলে, তাঁহার শুভদৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নজর দিতে হইবে বলিয়া ইংরাজের মুখ শুকাইয়া উঠিত। সুতরাং সিরাজদ্দৌলার রাজ্যপরিদর্শনের সংবাদে ইংরাজের বড়ই আশঙ্কা উপস্থিত হইল।

 সিরাজদ্দৌলা হুগলীতে পদার্পণ করিবামাত্র অভ্যর্থনার সমারোহে চারিদিকে হৈ হৈ পড়িয়া গেল। ফরাশী এবং দিনামারগণ অগ্রসুচী হইয়া হুগলীতে আসিয়া সিরাজকে অভ্যর্থনা করিলেন। মহারাজ নন্দকুমার এবং খোজা বাজিদ তখন হুগলীর সর্ব্বেসর্ব্বা। তাঁহাদের অনুকম্পায় ফরাশী এবং দিনামার সিরাজদ্দৌলার শুভদৃষ্টি লাভ করিয়া ধন্য হইলেন। ইংরাজদিগকে অনুপস্থিত দেখিয়া হুগলীর ফৌজদার তাঁহাদিগকেও তলপ দিলেন। ইংরাজদিগের সভাপতি বহুবিধ উপঢৌকন লইয়া সসম্ভ্রমে সিরাজের সম্মুখে জানু পাতিয়া উপবেশন করিলেন। এই উপলক্ষে ইংরাজদিগের ১৫৫৬০ টাকা ব্যয় হইয়া গেল। যে বাবত যত টাকা ব্যয় হইল, ইংরাজগণ তাহার হিসাব যত্নপূর্ব্বক লিখিয়া রাখিয়াছেন। তাহা হইতে সে কালের আচার

  1. The English got off after paying the Nawab through the Siets 1200000 Rupees.—Long's Selections.