পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-প্রথম খণ্ড.djvu/১৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্রকৃতি


নদী

হে পর্বত, যত নদী করি নিরীক্ষণ,
তোমাতেই করে তারা জনম গ্রহণ।
ছোট বড় ঢেউ সব তাদের উপরে
কল কল শব্দ করি সবে ক্রীড়া করে,
নদী বেঁকে চুরে যায় দেশে দেশে,
সাগরেতে পড়ে গিয়া সকলের শেষে।
পথে যেতে যেতে নদী দেখে কত শোভা,
কি সুন্দর সেই-সব, কি-বা মনোলোভা।
কোথাও কোকিল দেখে বসি সাথী সনে,
কি সুন্দর কুহু গান গায় নিজ মনে,
কোথাও ময়ূরে দেখে পাখা প্রসারিয়া
বন ধারে দলে দলে আছে দাঁড়াইয়া!
নদীতীরে কত লোক শ্রান্তি নাশ করে,
কত শত পক্ষী আসি তথায় বিচরে।
দেখিতে দেখিতে নদী মহাবেগে ধায়,
কভুও সে পশ্চাতেতে ফিরে নাহি চায়॥

মুকুল—১৩০৩


অন্ধ মেয়ে

গভীর কালো মেঘের পরে রঙিন ধনু বাঁকা,
রঙের তুলি বুলিয়ে মেঘে খিলান যেন আঁকা!
সবুজ ঘাসে রোদের পাশে আলোর কেরামতি,
রঙিন বেশে, রঙিন ফুলে রঙিন প্রজাপতি!

অন্ধ মেয়ে দেখছে না তা—নাই-বা যদি দেখে—
শীতল মিঠা বাদল হাওয়া যায় যে তারে ডেকে!
শুনছে সে যে পাখির ডাকে হরষ কোলাকুলি,
মিষ্টি ঘাসের গন্ধে তারও প্রাণ গিয়েছে ভুলি!

দুঃখ-সুখের ছন্দে ভরা জগৎ তারও আছে,
তারও আঁধার জগৎখানি মধুর তারই কাছে॥

সন্দেশ—১৩২৪


বিবিধ কবিতা
১৪৯