পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-প্রথম খণ্ড.djvu/১৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

আড়ি

কিসে কিসে ভাব নেই? ভক্ষক ও ভক্ষ্যে—
বাঘে ছাগে মিল হলে আর নেই রক্ষে।

শেয়ালের সাড়া পেলে কুকুরেরা তৈরি,
সাপে আর নেউলে তো চিরকাল বৈরী!

আদা আর কাঁচকলা মেলে কোনদিন সে?
কোকিলের ডাক শুনে কাক জ্বলে হিংসেয়।

তেলে দেওয়া বেগুনের ঝগড়াটা দেখ নি?
ছ্যাঁক ছ্যাঁক রাগ যেন খেতে আসে এখনি।

তার চেয়ে বেশি আড়ি আমি পারি কহিতে—
তোমাদের কারো কারো কেতাবের সহিতে॥

সন্দেশ-১৩২৫

হরিষে বিষাদ

দেখছে থোকা পঞ্জিকাতে এই বছরে কখন কবে
ছুটির কত খবর লেখে, কিসের ছুটি কদিন হবে।
ঈদ, মহরম, দোল, দেওয়ালি, বড়দিন আর বর্ষশেষে—
ভাবছে যত ফুল্লমুখে, ফুর্তিভরে ফেলছে হেসে।
এমন কালে নীল আকাশে হঠাৎ-খ্যাপা মেঘের মতো,
উথলে ছোটে কান্নাধারা ডুবিয়ে তাহার হর্ষ যত।
“কি হল তোর? সবাই বলে, 'কলমটা কি বিধলো হাতে?‘
জিভে কি তোর দাঁত বসালি?' ‘কামড়ালে কি ছারপোকাতে?
প্রশ্ন শুনে কান্না চড়ে, অশ্রু ঝরে দ্বিগুণ বেগে,
পঞ্জিকাটি আছড়ে ফেলে বল্লে কেদে আগুন রেগে
‘ঈদ পড়েছে জষ্ঠিমাসে গ্রীষ্মে যখন থাকেই ছুটি,
বর্ষশেষ আর দোল তো দেখি রোববারেতেই পড়লো দুটি।
দিনগুলোকে করলে মাটি মিথ্যে পাজি পঞ্জিকাতে—
মুখ ধোব না, ভাত খাব না, ঘুম যাব না আজকে রাতে।'

সন্দেশ-১৩২৬
বিবিধ কবিতা
১৭১