পাতা:স্মৃতিকথা (জ্ঞানদানন্দিনী দেবী).djvu/৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
 পুরাতনী
৪২


একলা পাঠালেন তাই এখন ভাবি। অবশ্য সেখানকার লোক আমাকে মায়া করত আর সবাই আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করত।

 বিলেতে থাকতে Tunbridge Wells, Brighton ও Torquay তে গিয়েছিলুম। সমুদ্রের ধারের জায়গায় ছেলেরা বালি নিয়ে বালতি নিয়ে খেলা করত। দেশের লোকের মধ্যে Mabel Dutt (পরে ওঁর বন্ধু তারকনাথ পালিতের বউ হন) বেশ সুন্দরী ছিলেন। তার বাপ ক্ষেত্র দত্ত মেম বিয়ে করেছিলেন। মাঝে মাঝে আমাদের ওখানে আসতেন। একদিন মদ খেয়ে গেলাসে অল্প রেখেছিলেন, বিবি সেটুকু খেয়ে ফেলেছিল। সেজন্যে তাকে খুব বকলুম, কারণ তাঁর জিভে একটা অসুখ ছিল। মেবল আমার ছেলেদের চেয়ে বয়সে কিছু বড় ছিল ও তাদের শোবার সময় গল্প বলত। তাতে Beelzebub-এর কথা থাকত, তারা এখনো মনে করে। আর একজন ছিলেন অ্যানি চক্রবর্তী। তার বাপ গুডীব (সূর্যকুমার) চক্রবর্তী দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে বিলেত গিয়ে ডাক্তার হয়ে এসেছিলেন ও মালয় ফিরিঙ্গী মেম বিয়ে করেছিলেন। তার বড় মেয়ে সিসটার বেনেডিক্‌টা নামে নান্‌ হন আগেই বলেছি। এই অ্যানি ছিলেন তাঁর আর একটি মেয়ে ও তাঁর চেহারায় মাতৃকুলের কিছু ছাপ ছিল। তিনি এদেশে এসে প্যারী রায় নামক ব্যারিস্টারকে বিয়ে করে অনেকগুলি ছেলেমেয়ে নিয়ে বহু দিন সুখে সচ্ছন্দে সংসার করেন। তিনি সামাজিক মেলামেশায় খুব পটু ছিলেন। তাঁর সঙ্গে অনেক কাল ধরে আমাদের বন্ধুত্ব ছিল। তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর সম্প্রতি পঙ্গু অবস্থায় বেঁচে আছেন শুনতে পাই, তবে আমার সঙ্গে আর দেখাশুনো হয় না।

 আমারও এখন শরীর প্রাচীন ও অপটু। চোখে কানে ভাল দেখতে শুনতে পাইনে। সব কথা ভুলে যাই। সেইটেই আমার বেশী কষ্টকর মনে হয়। কাজেই পূর্বজীবনের কথা ধারাবাহিক ভাবে বলা আমার পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবু আমার মেয়ে ছাড়েন না, তাই তাঁর প্রশ্নের যতটুকু পারি উত্তর দিয়ে যাই। তাতে খাপছাড়া ভাবে কিছু জানা যায় মাত্র।