হেমন্তে

শাঁইয়ের গন্ধ থিতিয়ে আছে নিবিড় ঝোপের নীচে,
হেমন্তের এই হৈম আলো ঠেক্‌ছে ভিজে ভিজে;
ঝরা শাইয়ের ফুল
নিশাস ফেলে নিরাশ মনে বিষাদ সমাকুল।

কমল বনে নেই কমলা, চঞ্চরীকা চুপ!
বিজন আজি পদ্মদীঘি লক্ষ্মীছাড়ার রূপ!
কোজাগরের চাঁদ
ডুবে গেছে ছিন্ন ক’রে আলোর মায়া-ফাঁদ।

একটি দুটি পাপড়ি নিয়ে রিক্ত মৃণালগুলি
রক্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে মরাল গ্রীবা তুলি’;
ভাঙা হাটের তান
আবিল ক’রে তুলছে হাওয়া ক্লান্ত ম্ৰিয়মাণ।


দেখ্‌ছে‌ মৃণাল নিজের ছায়া দেখছে মলিন মুখে,
পদ্মফুলের পাপ্ড়ি‌ শুকায় পদ্মপাতার বুকে!
ভরসা কিছু নাই,
ধোঁয়ার সাথে সন্ধি ক’রে ঝরছে শুধু ছাই।

আকাশ জোড়া আঁখির কোলে জম্ছে‌ কালে দাগ,
বইছে বাতাস কুণ্ঠাভরা দীনের অনুরাগ!
ফিরে সে পায় পায়,
চাইলে চোখে সঙ্কোচে সে চম্কে‌ সরে যায়!

ডাগর গুছি কনক-রুচি কনক-চুড়া ধান,
ওই পরশে কেঁপে কেঁপে হ’চ্ছে ম্রিয়মাণ;
শির্‌শিরে সেই বায়,
ক্ষেতের হরিত কুজ্ঝটিকা ঝাপ্‌সা চোখে চায়!

তেঁতুল ঝোপে ডাক্‌ছে ঝিঁঝি, ঝিমিয়ে আসে মন,
মিলিয়ে আসে দীঘির জলে আলোর আলেপন;
সূর্য্য ডুবে যায়,
সন্ধ্যামণি নোয়ায় মাথা সন্ধ্যামুনির পায়!

হাওয়ার মত হাল্কা হিমের ওঢ়ন দিয়ে গায়,
অন্ধকারে বসুন্ধরা শূন্য চোখে চায;
তারার আলো দূর,
কণ্ঠভরা বাষ্প, আঁখি অশ্রু-পরিপূর।


দেউটি জলে আকাশতলে তন্দ্রা-নিমগন,
শাঁইয়ের ঝোপে জোনাক চলে, স্তব্ধ ঝাউয়ের বন;
সুপ্ত চারিদিক,
হিমের দেশে ঘুমের বেশে মরণ অনিমিখ।