চোদ্দো

কালাে অন্ধকারের তলায়
পাখির শেষ গান গিয়েছে ডুৰে।
বাতাস থমথমে,
গাছের পাতা নড়ে না,
স্বচ্ছ রাত্রের তারাগুলি
যেন নেমে আসছে
পুরাতন মহানিম গাছের
ঝিল্লিঝংকৃত স্তব্ধ রহস্যের কাছাকাছি।

এমন সময়ে হঠাৎ আবেগ
আমার হাত ধরলে চেপে;
বললে, “তােমাকে ভুলব না কোনােদিনই।”
দীপহীন বাতায়নে
আমার মূর্তি ছিল অস্পষ্ট,
সেই ছায়ার আবরণে
তােমার অন্তরতম আবেদনের
সংকোচ গিয়েছিল কেটে।
সেই মুহূর্তে তােমার প্রেমের অমরাবতী
ব্যাপ্ত হল অনন্ত স্মৃতির ভূমিকায়।

সেই মুহূর্তের আনন্দ বেদনা
বেজে উঠল কালের বীণায়,
প্রসারিত হল আগামী জন্ম-জন্মান্তরে।
সেই মুহুর্তে আমার আমি
তােমার নিবিড় অনুভবের মধ্যে
পেল নিঃসীমতা।
তােমার কম্পিত কণ্ঠের বাণীটুকুতে
সার্থক হয়েছে আমার প্রাণের সাধনা,
সে পেয়েছে অমৃত।
তােমার সংসারে অসংখ্য যা-কিছু আছে
তার সবচেয়ে অত্যন্ত ক'রে আছি আমি,
অত্যন্ত বেঁচে।

এই নিমেষটুকুর বাইরে আর যা-কিছু
সে গৌণ।
এর বাইরে আছে মরণ-
একদিন রূপের আলাে-জ্বালা রঙ্গমঞ্চ থেকে
সরে যাব নেপথ্যে।
প্রত্যক্ষ সুখদুঃখের জগতে
মুর্তিমান অসংখ্যতার কাছে
আমার স্মরণচ্ছায়া মানবে পরাভব।
তােমার দ্বারের কাছে আছে যে কৃষ্ণচূড়া

যার তলায় দু বেলা জল দাও আপন হাতে,
সেও প্রধান হয়ে উঠে
তার ডাল-পালার বাইরে
সরিয়ে রাখবে আমাকে
বিশ্বের বিরাট অগােচরে।
তা হােক,
এও গৌণ।