১৩৯

(আমি) শ্রাবণ-আকাশে ওই দিয়েছি পাতি
মম  জল-ছলোছলো আঁখি মেঘে মেঘে।
(আমার বেদনা ব্যাপিয়া যায় গো বেণুবনমর্মরে মর্মরে।)
বিরহদিগন্ত পারায়ে সারা রাতি
অনিমেষে আছে জেগে  মেঘে মেঘে।
(বিরহের পরপারে খুঁজিছে আকুল আঁখি
মিলনপ্রতিমাখানি— খুঁজিছে।)
যে  গিয়েছে দেখার বাহিরে
আছে  তারি উদ্দেশে চাহি রে।
(সে যে চোখে মোর জল রেখে গেছে চোখের সীমানা পারায়ে।)
স্বপ্নে উড়িছে তারি কেশরাশি
পুরব-পবন-বেগে  মেঘে মেঘে।
(কেশের পরশ তার পাই রে
পুরব-পবন-বেগে মেঘে মেঘে।)
শ্যামল তমালবনে
যে পথে সে চলে গিয়েছিল বিদায়গোধুলিখনে
বেদনা জড়ায়ে আছে তারি ঘাসে—
(তার  না-বলা কথার বেদনা বাজে গো—
চলার পথে পথে বাজে গো।)
কাঁপে নিশ্বাসে—
সেই বারে বারে ফিরে ফিরে চাওয়া
ছায়ায় রয়েছে লেগে  মেঘে মেঘে।