লমনসফ

রুসিয়ার অন্তঃপাতী আর্কেঞ্জল প্রদেশে কোলমগর নামে এক নগর আছে। এই নগরে লমনসফের জন্ম হয়। ইহার পিতা অতি দুঃখী ছিলেন; সমুদ্র হইতে মৎস্য ধরিয়া, বাজারে বিক্রয় করিয়া, জীবিকানির্বাহ করিতেন। লমনসফ কয়েক বার পিতার সঙ্গে শ্বেত ও উত্তর সাগরে মৎস্য ধরিতে গিয়াছিলেন। তিনি উত্তর কালে পৈতৃক ব্যবসায় অবলম্বন করিতেন, তাহার সন্দেহ নাই। কিন্তু, সৌভাগ্যক্রমে লেখা পড়া বিষয়ে তাঁহার অতিশয় অনুরাগ ছিল। ঐ অনুরাগ ছিল বলিয়া, তিনি অবশেষে অদ্বিতীয় ও চিরস্মরণীয় হইয়া গিয়াছেন।

 শীতকালে মৎস্য ধরিতে যাইতে হইত না। লমনসফ, সেই সময়ে, নিশ্চিন্ত হইয়া, আন্তরিক যত্ন সহকারে অধ্যয়ন করিতেন। এক পাদরি অনুগ্রহ করিয়া, তাঁহাকে শিক্ষা দিতেন। তাঁহার নিকট ব্যাকরণ, পাটীগণিত ও গীতাবলী এই তিনখানি মাত্র পুস্তক ছিল। তিনি, অজস্র পাঠ করিয়া ঐ তিন পুস্তক আদ্যন্ত কণ্ঠস্থ করিয়াছিলেন।

 উক্ত তিনি পুস্তক পাঠ দ্বারা বিদ্যার কিঞ্চিৎ আস্বাদ পাইয়া, ভাল করিয়া লেখা পড়া শিখিবার নিমিত্ত, তাঁহার অত্যন্ত যত্ন ও ইচ্ছা হইল। তখন তিনি মস্কো নগরে গমন করিলেন, এবং তথাকার এক বিদ্যালয়ে প্রবিষ্ট হইয়া, অলপ দিনের মধ্যেই এত শিক্ষা করিলেন যে, তদ্দৃষ্টে তাঁহার উপর অনেকের অনুগ্রহ হইল। সেই অনুগ্রহের বলে, নানা বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করিয়া, তিনি বহু বিদ্যায় অদ্বিতীয় পণ্ডিত হইয়া উঠিলেন। প্রথমতঃ, তিনি এক অধ্যাপকের পদে নিযুক্ত হন; পরিশেষে, রাজমন্ত্রীর পদ পর্য্যন্ত প্রাপ্ত হইয়াছিলেন।

 দেখ! লমনসফ ও তাঁহার পিতা উভয়ের কত অন্তর; লমনসফের পিতা মৎস্য ধরিয়া ও বিক্রয় করিয়া জীবন কাটাইয়া গিয়াছিলেন; কিন্তু লমনসফ নানা বিদ্যায় অদ্বিতীয় পণ্ডিত, অধ্যাপক, ও রাজমন্ত্রী পর্য্যন্ত হইয়াছিলেন। লমনসফের লেখাপড়ায় অত্যন্ত ষত্ব ও অত্যন্ত অনুরাগ ছিল বলিয়া, তিনি এরূপ হইতে পারিয়াছিলেন; নতুবা তাঁহাকেও নিঃসন্দেহ, পৈতৃক ব্যবসায় অবলম্বন করিয়া, জীবন কাটাইতে হইত।