তীর্থরেণু/যোদ্ধৃ জননী

যোদ্ধৃ জননী

এস বাছা, এস বাপা! দুলাল রে আমার
বিদায় দিয়ে তোরে,
ভাবছি এখন শূন্য ঘরে শূন্য হৃদয় নিয়ে
থাকব কেমন ক'রে।
ডাক এল আর চলে গেলি দুরন্ত যুদ্ধেতে,
বাপের মৃত্যু ভুলে,
অভাগী এই বিধবাকেই আবার দিতে হ’ল
বুকের পাঁজর খুলে,-
দিতে হ’ল প্রাণের চেয়ে যে জিনিষটি প্রিয়,-
পরের হাতে তুলে।

বাছা আমার ভাবে কেবল গৌরবেরই কথা,
জয়ের স্বপন দেখে;
আমার হিয়া অমঙ্গলের মিথ্যা ভয়ে কেঁপে
উঠছে থেকে থেকে।
হয়তো বাছা হ’বি জয়ী, জয়ের মালা সবাই
দেবে তোমার গলে,
আমি সে আর দেখবনাকো, দুঃখে ও আহলাদে
ভেসে নয়ন জলে;
আমি তাহার আগেই যাব,—আগেই মিশে যাব
বসুমাতার কোলে।

অল্প দিনেই যায় রে ভুলে ছেড়ে যাওয়ার ব্যথা
অল্পবয়সীরা,
বুড়া হাড়ে দুর্ভাবনা ঘুণের মত ধরে,
কেবলি দ্যায় পীড়া !
আর যারা তোর পথ চাহে আজ, বয়স তাদের কম,
হয় তো, তারা তোরে
দেখতে পাবে, খুসী হ'বে ; ভালয় ভালয় যদি
ফিরে আসিস, ওরে !
দেখতে শুধু পাবেনাকো দুঃখিনী তোর মা,
সে অভাগী আগেই যাবে মরে।

বেইলি।