পত্রাবলী (১৯১২-১৯৩২)/১৪৮

শ্রীযুক্তা কল্যাণী দেবীকে লিখিত

১৪৮
1, Woodburn Park
Calcutta
কলিকাতার পথে
২৬।১০।২৯

ভগিনী সমানাসু,

 আপনার পত্র অনেকদিন হইল পাইয়াছি—পাঠ করিয়া এক সঙ্গে আনন্দ ও ব্যথা পাইয়াছি। উত্তর ইতিপূর্ব্বেই দেওয়া উচিত ছিল কিন্তু আজ প্রায় ১০ দিন হইল চক্রের মত ঘুরিতেছি। আজ দিল্লী হইতে কলিকাতা যাওয়ার পথে উত্তর দিবার চেষ্টা করিতেছি—কারণ কলিকাতায় নামিলে কি অবস্থা হইবে জানি না—খুব সম্ভব পত্র দিবার অবসর পাওয়া সহজ হইবে না। আপনি যখন আমাকে পত্র দেন তখন মা পুরুলিয়ায়—অথচ আপনি সে খবর পান নাই।

 আমি শৈশব হইতে স্বভাবতঃ বড় লাজুক—এখনও তাই—সভাসমিতিতে বক্তৃতা করা সত্ত্বেও। লোকে মনে করে আমি অহঙ্কারী। আমি আর যাহা হই না কেন অহঙ্কারী নহি—কারণ আমি জানি যে অহঙ্কার করিবার মত আমার কিছু নাই। আমি যেখানে নিজেকে ধরা দিই—সেখানে ভাল করেই ধরা দিই। আপনাদের সকলকে আমি কি চক্ষে দেখি তা আপনারা জানেন।

 পাঞ্জাবের লোকেরা এবার আমার প্রতি যথেষ্ট ভালবাসা, কৃপা ও সম্মান সর্ব্বত্র দেখাইয়াছেন। যতীন দাসের আত্মবলিদানই ইহার জন্য দায়ী। বাস্তবিক এখন যেন পাঞ্জাবের আবহাওয়া একেবারে বদলিয়া গিয়াছে।

 আমার কার্য্যসূচী এখন এতটা অনিশ্চিত যে পুরুলিয়া যাওয়া সম্ভব হইবে কি না জানি না—আশা তো খুবই কম।

 আমার ভালবাসা ও বিজয়ার সম্ভাষণ জানিবেন—ভাস্করবাবুকে জানাইবেন——এবং শ্বশুর মহাশয় ও শাশুড়ী ঠাকুরাণীকে আমার ভক্তি পূর্ণ প্রণাম দিবেন। ছেলেদেরও আমার ভালবাসা দিবেন। ইতি—

আপনাদের 
সুভাষ 

 পুনঃ—কলিকাতায় ফিরেছি। গ্রেপ্তার কেহ করে নাই—ম্যাজিষ্ট্রেট bail-এ খালাস করেছে।

সুভাষ 
২৭।১০।২৯