পূরবী/পথিক/বাতাস

বাতাস

গােলাপ বলে, ওগাে বাতাস, প্রলাপ তােমার বুঝ্‌তে কেবা পারে,
কেন এসে ঘা দিলে মাের দ্বারে?
বাতাস বলে, ওগাে গােলাপ, আমার ভাষা বােঝো বা নাই বােঝো,
আমি জানি কাহার পরশ খোঁজো;
সেই প্রভাতের আলাে এলাে, আমি কেবল ভাঙিয়ে দিলাম ঘুম
হে মাের কুসুম॥


পাখী বলে, ওগাে বাতাস, কী তুমি চাও বুঝিয়ে বলো মােরে,
কুলায় আমার দুলাও কেন ভােরে?
বাতাস বলে,ওগাে পাখী, আমার ভাষা বােঝো বা নাই বােঝো,
আমি জানি তুমি কারে খোঁজো;
সেই আকাশে জাগ্‌লাে আলাে, আমি কেবল দিনু তােমায় আনি’
সীমাহীনের বাণী॥

নদী বলে, ওগাে বাতাস, বুঝ্‌তে নারি কী যে তােমার কথা,
কিসের লাগি’ এতই চঞ্চলতা।
বাতাস বলে, ওগাে নদী, আমার ভাষা বােঝো বা নাই বােঝো,
জানি তােমার বিলয় যেথা খোঁজো;
সেই সাগরের ছন্দ আমি এনে দিলাম তােমার বুকের কাছে,
তােমার ঢেউয়ের নাচে॥

অরণ্য কয়, ওগো বাতাস, নাহি জানি বুঝি কি নাই বুঝি
তােমার ভাষায় কাহার চরণ পূজি।
বাতাস বলে, হে অরণ্য, আমার ভাষা বােঝো বা নাই বােঝো,
আমি জানি কাহার মিলন খোঁজো;
সেই বসন্ত এলাে পথে, আমি কেবল সুর জাগাতে পারি
তাহার পূর্ণতারি॥

শুধায় সবে, ওগো বাতাস, তবে তােমার আপন কথা কী যে
বলো মোদের, কী চাও তুমি নিজে?
বাতাস বলে, আমি পথিক, আমার ভাষা বােঝো বা নাই বােঝাে,
আমি বুঝি তােমরা কারে খোঁজো,—
আমি শুধু যাই চ’লে আর সেই অজানার আভাস করি দান,
আমার শুধু গান॥


আণ্ডেস্ জাহাজ,

২০ অক্টোবর, ১৯২৪।