৩২

মনের মধ্যে নিরবধি শিকল-গড়ার কারখানা।
একটা বাঁধন কাটে যদি বেড়ে ওঠে চারখানা॥
কেমন করে নামবে বোঝা,
তোমার আপদ নয় যে সোজা,
অন্তরেতে আছে যখন ভয়ের ভীষণ ভারখানা॥
রাতের আঁধার ঘোচে বটে বাতির আলো যেই জ্বালো।
মূর্চ্ছাতে যে আঁধার ঘটে রাতের চেয়ে ঘোর কালো।

ঝড় তুফানে ঢেউয়ের মারে
তবু তরী বাঁচতে পারে,
সবার বড় মার যে তোমার ছিদ্রটার ঐ মারখানা॥
পর তো আছে লাখে লাখে কে তাড়াবে নিঃশেষে?
ঘরের মধ্যে পর যে থাকে পর ক’রে দেয় বিশ্বে সে।
কারাগারের দ্বারী গেলে
তখনি কি মুক্তি মেলে?
আপনি তুমি ভিতর থেকে চেপে আছ দ্বারখানা।
শূন্য ঝুলির নিয়ে দাবী রাগ করে রোস্ কার পরে?
দিতে জানিস্ তবেই পাবি পাবিনে ত ধার ক'রে।
লোভে ক্ষোভে উঠিস্ মাতি,
ফল পেতে চাস্ রাতারাতি,
মুঠোরে তোর করবে ফুটো আপন খাঁড়ার ধারখানা॥