পুতুল ভাঙা

‘সাত আট্‌টে সাতাশ’ আমি
বলেছিলেম ব’লে
গুরুমশায় আমার ’পরে
উঠল রাগে জ্বলে।
মা গো, তুমি পাঁচ পয়সায়
এবার রথের দিনে
সেই-যে রঙিন পুতুলখানি
আপনি দিলে কিনে
খাতার নীচে ছিল ঢাকা;
দেখালে এক ছেলে,
গুরুমশায় রেগে মেগে
ভেঙে দিলেন ফেলে।
বললেন, ‘তোর দিনরাত্তির
কেবল যত খেলা।
একটুও তোর মন বসে না
পড়াশুনোর বেলা।’

মা গো, আমি জানাই কাকে?
ওঁর কি গুরু আছে?
আমি যদি নালিশ করি
এক্‌খনি তাঁর কাছে?
কোনোরকম খেলার পুতুল
নেই কি, মা, ওঁর ঘরে?
সত্যি কি ওঁর একটুও মন
নেই পুতুলের ’পরে?
সকাল-সাঁজে তাদের নিয়ে
করতে গিয়ে খেলা
কোনো পড়ায় করেন নি কি
কোনোরকম হেলা?
ওঁর যদি সেই পুতুল নিয়ে
ভাঙেন কেহ রাগে,
বল্‌ দেখি মা, ওঁর মনে তা
কেমনতরো লাগে।


৯ আশ্বিন ১৩২৮