চিত্রবিচিত্র/হনুচরিত

হনু বলে , তুলব আমি গন্ধমাদন ,
       অসাধ্য যা তাই জগতে করব সাধন ।
           এই ব ' লে তার প্রকাণ্ড কায় উঠল ফুলে ।
  
মাথাটা তার কোথায় গিয়ে ঠেকল মেঘে ,
       শালের গুঁড়ি ভাঙল পায়ের ধাক্কা লেগে ,
           দশটা পাহাড় ঢাকল তাহার দশ আঙুলে ।
পড়ল বিপুল দেহের ছায়া যে দিক বাগে
       দুপুর-বেলায় সেথায় যেন সন্ধ্যা লাগে ,
           গোরু যত মাঠ ছেড়ে সব গোষ্ঠে ছোটে ।
সেই দিকেতে সূর্যহারা আকাশ-তলে
       দিন না যেতেই অন্ধকারের তারা জ্বলে ,
           শেয়ালগুলো হুক্কাহুয়া চেঁচিয়ে ওঠে ।
লেজ বেড়ে যায় হু হু ক ' রে এঁকে বেঁকে ,
       লেজের মধ্যে বন্যা নামল কোথা থেকে ,
           নগর পল্লী তলায় তাহার চাপা পড়ে ।
হঠাৎ কখন্‌ মস্ত মোটা লেজের বাধায়
       নদীর স্রোতের মধ্যখানে বাঁধ বেঁধে যায় ,
           উপড়ে পড়ে দেবদারুবন লেজের ঝড়ে ।
লেজের পাকে পাহাড়টাকে দিল মোড়া ,
       ঝেঁকে ঝেঁকে উঠল কেঁপে আগাগোড়া ,
           দুড়্‌দাড়িয়ে পাথর পড়ে খ ' সে খ ' সে ।
গিরির চূড়া এক পাশেতে পড়ল ঝুঁকি ,
       অরণ্যে হয় গাছে গাছে ঠোকাঠুকি ,
           আগুন লাগে শাখায় শাখায় ঘ ' ষে ঘ ' ষে ।
পক্ষী সবে আর্তরবে বেড়ায় উড়ে ,
       বাঘ-ভালুকের ছুটোছুটি পাহাড় জুড়ে ,
           ঝর্নাধারা ছড়িয়ে গেল ঝর্‌ঝরিয়ে ।
উপুড় হয়ে গন্ধমাদন পড়ল লুটে ,
       বসুন্ধরার পাষাণ-বাঁধন যায় রে টুটে ।
           ভীষণ শব্দে দিগ্‌দিগন্ত থর্‌থরিয়ে
ঘূর্ণিধুলা নৃত্য করে অম্বরেতে ,
       ঝঞ্ঝাহাওয়া হুংকারিয়া বেড়ায় মেতে ,
           ধূসর রাত্রি লাগল যেন দিগ্‌বিদিকে ।
  
গন্ধমাদন উড়ল হনুর পৃষ্ঠে চেপে ,
       লাগল হনুর লেজের ঝাপট আকাশ ব্যেপে —
           অন্ধকারে দন্ত তাহার ঝিকিমিকে ।