প্রধান মেনু খুলুন


Y 36 চোখের বালি বিনোদিনী অবিচলিত ভাবে কহিল, “পিসিম, আমরা মায়াবিনীর জাত, আমার মধ্যে কী মায় ছিল তাহা আমি ঠিক জানি নাই, তুমি জানিয়াছ ; তোমার মধ্যেও কী মায়া ছিল তাহা তুমি ঠিক জান নাই, আমি জানিয়াছি। কিন্তু মায়া ছিল, নহিলে এমন ঘটনা ঘটিত না । ফাদ আমিও কতকটা জানিয়া এবং কতকটা না জানিয়া পাতিয়াছি। ফাদ তুমিও কতকটা জানিয়া এবং কতকটা না জানিয়া পাতিয়াছ । আমাদের জাতের ধর্ম এইরূপ— আমরা মায়াবিনী ।” রোষে রাজলক্ষ্মীর যেন কণ্ঠরোধ হইয়া গেল— তিনি ঘর ছাড়িয়া দ্রুতপদে চলিয়া গেলেন । বিনোদিনী একলা-ঘরে ক্ষণকালের জন্য স্থির হইয়া দাড়াইয়া রহিল— তাহার দুই চক্ষে আগুন জলিয়া উঠিল । সকালবেলাকার গৃহকার্য হইয়া গেলে রাজলক্ষ্মী মহেন্দ্রকে ডাকিয়া পাঠাইলেন । মহেন্দ্ৰ বুঝিল, কাল রাত্রিকার ব্যাপার লইয়া আলোচনা হইবে। তখন বিনোদিনীর কাছ হইতে পত্রোত্তর পাইয় তাহার মন বিকল হইয়| উঠিয়াছিল। সেই মাঘাতের প্রতিঘাত-স্বরূপে তাহার সমস্ত তরঙ্গিত হৃদয় বিনোদিনীর দিকে সবেগে ধাবমান হইতেছিল। ইহার উপরে আবার মার সঙ্গে উত্তর-প্রত্যুত্তর করা তাহার পক্ষে অসাধা । মহেন্দ্র জানিত, মা তাহাকে বিনোদিনী সম্বন্ধে ভৎসনা করিলেই বিদ্রোহীভাবে সে যথার্থ মনের কথা বলিয়া ফেলিবে এবং বলিয়া ফেলিলেই নিদারুণ গৃহযুদ্ধ আরম্ভ হইবে। অতএব এ সময়ে বাড়ি হইতে দূরে গিয়া সকল কথা পরিষ্কার করিয়া ভাবিয়া দেখা দরকার । মহেন্দ্র চাকরকে বলিল, “মাকে বলিস, আজ কালেজে আমার বিশেষ কাজ আছে, এখনই যাইতে হইবে, ফিরিয়া আসিয়া দেখা হইবে।” বলিয়া পলাতক বালকের মতো তখনই তাড়াতাড়ি কাপড় পরিয়া, না খাইয়া, ছুটিয়া বাহির হইয়া গেল। বিনোদিনীর যে দারুণ চিঠিখানা আজ সকাল হইতে বারবার করিয়া সে পড়িয়াছে এবং পকেটে লইয়া ফিরিয়াছে, আজ নিতান্ত তাড়াতাড়িতে সেই চিঠিমৃদ্ধ জামা ছাড়িয়াই সে চলিয়া গেল । 劇 এক পললা ঘন বৃষ্টি হইয়া তাহার পরে বাজলার মতো করিয়া রহিল। বিনোদিনীর মন আজ অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া আছে । মনের কোনো অস্বখ হইলে বিনোদিনী কাজের মাত্রা বাড়ায় । ভাই সে আজ যত রাজ্যের কাপড় জড়ো কম্বিয় চিহ্ন দিতে আরম্ভ করিয়াছে। আশার নিকট হষ্টতে কাপড় চাহিতে গিয়া আশার মুখের ভাব দেখিয়া তাহার মন আরো বিগড়াইয়া গেছে। সংসারে যদি চোখের বালি Y96. অপরাধীই হইতে হয়, তবে অপরাধের যত লাঞ্ছনা তাহাই কেন ভোগ করিবে, অপরাধের স্বত স্বখ তাহা হইতে কেন বঞ্চিত হইবে। ঝুপ কুপ, শৰে চাপিয়া বৃষ্টি জাগিল। বিনোদিনী তাহার ঘরে মেঝের উপর বসিয়া । সম্মুখে কাপড় ভূপাকার। খেমি দাসী এক-একখানি কাপড় অগ্রসর করিয়া দিতেছে, আর বিনোদিনী মার্ক দিবার কালি দিয়া তাহাতে অক্ষর মুদ্রিত করিতেছে। মহেক্স কোনো সাড়া না দিয়া দরজা খুলিয়া একেবারে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল। খেমি দাসী কাজ ফেলিয়া মাথায় কাপড় দিয়া ঘর ছাড়িয়া ছুট দিল । বিনোদিনী কোলের কাপড় মাটিতে ফেলিয়া দিয়া বিদ্যুবেগে উঠিয়া দাড়াইয়া কহিল, “যাও, আমার এ ঘর হইতে চলিয়া যাও।” মহেন্দ্র কছিল, “কেন, কী করিয়াছি।” : বিনোদিনী । কী করিয়াছি। ভীরু কাপুরুষ ! কী করিবার সাধ্য আছে তোমার ! না জান ভালোবাসিতে, না জান কর্তব্য করিতে। মাঝে হইতে আমাকে কেন লোকের কাছে নষ্ট করিতেছ। মহেন্দ্ৰ। তোমাকে আমি ভালোবাসি নাই, এমন কথা বলিলে ? বিনোদিনী । আমি সেই কথাই বলিতেছি। লুকাচুরি, ঢাকাঢাকি, একবার এ দিক, একবার ও দিক— তোমার এই চোয়ের মতো প্রবৃত্তি দেখিয়া আমার স্বণ জন্সিয়া গেছে। আর তালো লাগে না। তুমি যাও । মছেজ একেবারে মুহমান হইয়া কছিল, “তুমি আমাকে স্বশা কর বিনোদ ।” बिटनांनिौ । हैं, झुणां कब्रि । । बरहछ । ७वप्नद्धं 4थांब्रकिएछ कब्रिबांब्र नमब्र बां८छ् विप्नjण । जांभि शनि उवांब्र विषा न कब्रि, नबख *ब्रिडाणि कब्रिब्रा छजिब्रा बाहे, फूभि चांबांब्र मcन बाहेरङ अखउ चांइ ? बणिबा बरएटा बिप्नांशिनौच्च छूद्दे शंड नबरन थब्रिब्रॉ डांशदक कांग्रह छैोनिग्न लईल । बिटनांक्त्रैिौ कहिल, “शरफी, चांबांच्च लांनिरडरछ ।* মছেজ । তা লাগুৰ । ৰলো— ভূমি আমার সঙ্গে ৰাইবে ? বিনোদিনী । না, যাইব না। কোনোমতেই না । মছেজ । কেন যাইবে না ! তুমিই জামাকে সর্বনাশের মুখে টানিয়া জানিয়াছ, আজ ভূমি আমাকে পরিত্যাগ করিতে পায়িৰে না । তোমাকে যাইতেই হইবে। ৰলিয়া মছেজ স্বগৃঢ়ৰলে বিনোদিনীকে বুকের উপর টানিয়া লইল, ঙ্গের করিয়া > e 30 to চোখের বালি তাহাকে ধরিয়া রাখিয়া কছিল, “তোমার ঘৃণাও আমাকে ফিরাইতে পারিবে না, জামি তোমাকে লইয়া যাইবই, এবং যেমন করিয়াই হউক, তুমি আমাকে ভালোৰাগি ৰই ৷” বিনোদিনী সকলে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করিয়া লইল । মহেন্দ্ৰ কহিল, “চান্ধি দিকে আগুন জালাইয়া তুলিয়াছ ; এখন আর নিবাইতেও পারিবে না, পালাইতেও পরিবে না।” বলিতে বলিতে মহেঞ্জের গলা চড়িয়া উঠিল, উচ্চৈঃস্বরে সে কহিল, “এমন খেলা কেন খেলিলে বিনোদ । এখন আর ইহাকে খেলা বলিয়া মুক্তি পাইবে না। এখন তোমার আমার একই মৃত্যু।” রাজলক্ষ্মী ঘরে ঢুকিয়া কহিলেন, “মহিন, কী করছিস ।” মহেঞ্জের উন্মত্ত দৃষ্টি এক নিমেষমাত্র মাতার মুখের দিকে ঘুরিয়া আসিল ; তাহার পর পুনরায় বিনোদিনীর দিকে চাহিয়া মহেন্দ্ৰ কহিল, “আমি সব ছাড়িয়া চলিয়৷ যাইতেছি ; বলো— তুমি আমার সঙ্গে যাইবে ?” বিনোদিনী ক্রুদ্ধ রাজলক্ষ্মীর মুখের দিকে একবার চাহিল। তাহার পর অগ্রসর হইয়া অবিচলিত ভাবে মহেঞ্জের হাত ধরিয়া কহিল, “যাইব ।” মহেন্দ্ৰ কহিল, “তবে আজকের মতো অপেক্ষা করো, আমি চলিলাম, কাল হইতে তুমি ছাড়া আমার আর কেহ রহিবে না।” বলিয়া মহেন্দ্র চলিয়া গেল । এমন সময় ধোবা আসিয়া বিনোদিনীকে কহিল, “মাঠাকরুন, আর তো বসিতে পারি না। আজ যদি তোমাদের ফুরসত না থাকে তো আমি কাল আসিয়া কাপড় লইয়া যাইব ।” খেমি আসিয়া কহিল, “বউঠাকরুন, সহিস বলিতেছে দানা ফুরাইয়া গেছে।” বিনোদিনী সাত দিনের দানা ওজন করিয়া আস্তাবলে পাঠাইয়া দিত, এবং নিজে জানালায় দাড়াইয়া ঘোড়ার খাওয়া দেখিত । গোপাল-চাকর আলিয়া কহিল, “বউঠাকরুন, ঝডু-বেহারা আজ দাদামশায়ের (সাধুচরণের ) সঙ্গে ঝগড়া করিয়াছে । সে বলিতেছে, তাহার কেরোসিনের হিসাব বুৰিয়া লইলেই সে সরকার-বাবুর কাছ হইতে বেতন চুকাইয়া লইয়া কাজ ছাড়িয়া श्ब्रि छजिब्रा बाहेरद ।” সংসারের সমস্ত কৰ্মই পূৰ্বৰং চলিতেছে।