বেশ-গৌরব

কেন মোরা ফেটে মরি বেশের গৌরবে,
কেন ভাল বাসি তাহা দেখাইতে সবে।
নূতন রেশমি বস্ত্র বলিতেছি যায়,
গুটিপোকা বহু পূর্ব্বে পরিয়াছে তায়।
উত্তম কাশ্মীরি শাল বলিতেছি যারে,
চিরদিন ছাগলে ত পরে’ থাকে তারে।
যতই সুন্দর বেশ করি না ধারণ,
প্রকৃতি-সৌন্দর্য্য সহ না হয় তুলন।
তরুলতা, নানা ফুলে, হ’য়ে সুশোভিত,
প্রজাপতি, নানাবর্ণে হইয়া চিত্রিত,
আমার কৃত্রিম বেশে, করে পরাভব।
বৃথা কেন করি তবে বেশের গৌরব?
অতএব, এই বেশ করিয়া বর্জন,
অন্তরের বেশ তরে করিব যতন।
সত্য, ধর্ম্ম, দয়া আর জ্ঞান-উপদেশ,
এ সকল অন্তরের মহামূল্য বেশ।
সে বেশ কখন নাহি হয় পুরাতন,
বৃষ্টিজলে নষ্ট নাহি হয় কদাচন।

কখন কাটিতে তা’রে না পারে পোকায়,
কোন রূপ দাগ কভু নাহি ধরে তা’য়।
বরঞ্চ যতই হ’বে নিত্য ব্যবহার,
ক্রমশঃ বাড়িবে তত উজ্জ্বলতা তা’র।