পূরবী/পথিক/বিস্মরণ

বিস্মরণ

মনে আছে কার দেওয়া সেই ফুল?
সে-ফুল যদি শুকিয়ে গিয়ে থাকে
তবে তা’রে সাজিয়ে রাখাই ভুল,
মিথ্যা কেন কাঁদিয়ে রাখাে তা’কে?
ধূলায় তা’রি শান্তি, তা’রি গতি,
এই সমাদর কোরাে তাহার প্রতি
সময় যখন গেছে, তখন তা’রে
ভুলাে একেবারে॥

মাঘের শেষে নাগ্-কেশরের ফুলে
আকাশে বয় মন-হারানাে হাওয়া;
বনের বক্ষ উঠেছে আজ দুলে,
চামেলি ঐ কার যেন পথ-চাওয়া।
ছায়ায় ছায়ায় কাদের কানাকানি,
চোখে চোখে নীরব জানাজানি,
এ উৎসবে শুক্‌নো ফুলের লাজ
ঘুচিয়ে দিয়াে আজ॥

যদি বা তা’র ফুরিয়ে থাকে বেলা,
মনে জেনাে দুঃখ তাহে নাই;
ক’রেছিলাে ক্ষণকালের খেলা,
পেয়েছিলাে ক্ষণকালের ঠাঁই।

অলকে সে কানের কাছে দুলি’
ব’লেছিলাে নীরব কথাগুলি,
গন্ধ তাহার ফিরেছে পথ-ভুলে
তােমার এলােচু্লে॥

সেই মাধুরী আজ কি হবে ফাঁকি?
লুকিয়ে সে কি রয়নি কোনােখানে?
কাহিনী তা’র থাক্‌বে না আর বাকি
কোনাে স্বপ্নে, কোনাে গন্ধে গানে?
আরেক দিনের বনচ্ছায়ায় লিখা
ফির্‌বে না কি তাহার মরীচিকা?
অশ্রুতে তা’র আভাস দিবে নাকি
আরেক দিনের আঁখি॥

না-হয় তা-ও লুপ্ত যদিই হয়,
তা’র লাগি’ শােক, সে-ও তাে সেই পথে।
এ জগতে সদাই ঘটে ক্ষয়,
ক্ষতি তবু হয় না কোনােমতে।
শুকিয়ে-পড়া পুষ্পদলের ধূলি
এ ধরণী যায় যদি বা ভুলি’—
সেই ধূলারি বিস্মরণের কোলে
নতুন কুসুম দোলে॥


আন্দেস্ জাহাজ

১৯ অক্টোবর ১৯২৪।