বনবাণী/নটরাজ-ঋতুরঙ্গশালা/মাধুরীর ধ্যান


মাধুরীর ধ্যান

গান

মধ্যদিনে যবে গান
বন্ধ করে পাখি,
হে রাখাল, বেণু তব
বাজাও একাকী।
শান্ত প্রান্তরের কোণে
রুদ্র বসি তাই শোনে,
মধুরের ধ্যানাবেশে
স্বপ্নমগ্ন আঁখি,
হে রাখাল, বেণু যবে
বাজাও একাকী।


সহসা উচ্ছ্বসি উঠে
ভরিয়া আকাশ
তৃষাতপ্ত বিরহের
নিরুদ্ধ নিশ্বাস।
অম্বরপ্রান্তের দূরে
ডম্বরু গম্ভীর সুরে
জাগায় বিদ্যুৎ-ছন্দে
আসন্ন বৈশাখী।
হে রাখাল, বেণু তব
বাজাও একাকী।

পরানে কার ধেয়ান আছে জাগি,
জানি হে জানি, কঠোর বৈরাগী।
সুদূর পথে চরণ দুটি বাজে
পুরবকূলে বকুলবীথি-মাঝে,
লুটায়ে-পড়া অমলনীল সাজে
নবকেতকী-কেশর আছে লাগি।
তাহারি ধ্যান পরানে তব জাগি।


রাখাল বেণু বাজায় তরুতলে,
রাগিণী তার তাহারি কথা বলে।
ভূতলে খসি পড়িছে পাতাগুলি
চলিতে পাছে চরণে লাগে ধূলি—
কৃষ্ণচূড়া রয়েছে খেলা ভুলি
পথে তাহারে ছায়া দিবারই লাগি।
তাহারি ধ্যান পরানে আছে জাগি।


কাঁকন-ধ্বনি তপোবনের পারে
চপল বায়ে আসিছে বারে বারে।
কপোত দুটি তাহারি সাড়া পেয়ে
চাঁপার ডালে উঠিছে গেয়ে গেয়ে,
মরমে তব মৌনী আছে চেয়ে
আপন-মাঝে তাহারি বাণী মাগি।
তাহারি ধ্যান পরানে আছে জাগি।

কঠোর, তুমি মাধুরী-সাধনাতে
মগন হয়ে রয়েছ দিনে রাতে।
নীরস কাঠে আগুন তুমি জ্বাল,
আঁধার যাহা করিবে তারে আলো-
অশুচি যাহা যা-কিছু আছে কালো
দহিবে তারে, সুদূরে যাবে ভাগি।
মাধুরীধ্যান পরানে তব জাগি।