৩৪

কলিকাতা

 মাঝে তোমার একটা চিঠির জবাব দিতে পারিনি, ক’ল্‌কাতায় এসেচি। কেন এসেচি, হয় তো খবরের কাগজ থেকে ইতিমধ্যে কতকটা জান্‌তে পার্‌বে। তবু একটু খোলসা ক’রে বলি। তোমার লেফাফায় তুমি যখন আমার ঠিকানা লেখো, আমি ভাব্‌লুম ঐ পদবীটা তোমার পছন্দ নয়। তাই ক’ল্‌কাতায় এসে বড়োলাটকে চিঠি লিখেচি—আমার ঐ ছার পদবীটা ফিরিয়ে নিতে। কিন্তু চিঠিতে আসল কারণটা দিইনি— তোমার নামের একটুও উল্লেখ করিনি। বানিয়ে বানিয়ে অন্য নানাকথা লিখেচি। আমি ব’লেছি, বুকের মধ্যে অনেক ব্যথা জ’মে উঠেছিলো, তা’রই ভার আমার পক্ষে অসহ্য হয়ে উঠেচে—তাই ভারের উপরে আমার ঐ উপাধির ভার আর বহন ক’র্‌তে পার্‌চি নে; তাই ওটা মাথার উপর থেকে নামিয়ে দেবার চেষ্টা ক’র্‌চি। যাক্, এ সব কথা আর ব’ল্‌তে ইচ্ছা করে না— আবার অন্য কথাও ভাব্‌তে পারিনে। ১লা জুন, ১৯১৯।