তীর্থ-সলিল/জাতীয় সঙ্গীত (ফ্রান্স্‌)

জাতীয় সঙ্গীত।

(ফ্রান্স)

ফরাসীভূমির সন্তান সবে আয় রে আয় রে আয়!
কীর্ত্তিলাভের শুভ অবসর যায় রে বহিয়া যায়।
অত্যাচারের উদ্যত ধ্বজা রক্তে করিয়া স্নান,
আমাদের ‘পরে বৈর সাধিতে হ’য়েছে অধিষ্ঠান!
শুনিছ কি সবে কি ভীষণ রবে কাঁপায়ে জলস্থল,
দম্ভের ভরে গর্জ্জন করে শত্রু-সৈন্য-দল!
তা’রা যে আসিছে কেড়ে নিতে বলে তোমার সকল ধন,
গ্রাসিতে শস্য-ক্ষেত্র নাশিতে পুত্ত্র ও পরিজন!
ধর হাতিরার ফ্রান্সের লোক, বাঁধ দল, বাঁধ দল!
চল্ রে চল্ রে চল্!
ঘৃণ্য শোণিতে হ’বে কি সিক্ত মোদের ক্ষেত্রতল!

বিশ্বাসঘাতী ক্রীতদাস-দলে জিজ্ঞাস’ কিবা চায়?
ওই অতগুলা রাজার জটলা কেন বা আজি হেথায়?
কিসের জন্য ঘৃণ্য শিকল হইতেছে নির্ম্মাণ?—
যুগ যুগ ধ’রে কাহাদের তরে?—আজি ল’ব সন্ধান।
আরে অপমান! ফরাসী! ফরাসী! সে নাকি মোদেরি তরে!
ফরাসী! ফরাসী! এ কি গো সহসা! একি আজি অন্তরে!

একি উল্লাস! আমরা প্রথম সাহসে করিয়া ভর,
ধার্য্য ক’রেছি দাস্য-নিগড় ছিঁড়িব অতঃপর।
ধর হাতিয়ার ফ্রান্সের লোক········ইত্যাদি।

একি অভাগ্য! একি অপমান! বিদেশীর দল এসে,
বিধি ও বিধান করে ব্যবস্থা ফরাসীর এই দেশে!
একি অপমান! অর্থের লোভে বিদেশী সৈন্য যত,
ফরাসীর বল ধূলি লুণ্ঠিত করিতেছে অবিরত।
ওগো ভগবান্! এমনি করিয়া রহিব কি চিরকাল?
নত মস্তকে বহিব লাঙ্গল, হাতে শৃঙ্খল জাল?
যাহারা ঘৃণ্য যাহারা অধম—তা’দের বাড়িবে বল?
ভাগ্য বিধাতা হ’বে কি মোদের অত্যাচারীর দল?
ধর হাতিয়ার ফ্রান্সের লোক........ ইত্যাদি।

ভয়ে কেঁপে মর; বিশ্বাসঘাতী অত্যাচারীর দল!
সকল দলের তোরা কলঙ্ক সবার ঘৃণার স্থল;
ভয়ে কেঁপে মর; সময় এসেছে, পা’বি তোরা এইবার,
পিতৃদ্রোহের ফন্দীর যাহা যোগ্য পুরস্কার!
তোদের সঙ্গে যু’ঝতে দেশের সকলেই আজি সৈন্য,
যদি হত হয়!—কি ভয়? মোদের লোকের নাহিক দৈন্য;
এ মাটি আবার দিবে উপহার প্রসবি’ নুতন বীর,
তা’রাও তৈয়ার হইবে বুঝিতে তারাও ভুলিবে শির;
ধর হাতিয়ার ফ্রান্সের লোক..... ইত্যাদি।

আমরা ফরাসী,—পালন করিব বীরের ধর্ম্ম যত,
বীরের মতন করিব আঘাত, সহিব বীরের মত;
যারা বিপক্ষে যুঝিছে মোদের লজ্জা-জড়িত মনে,
অভাগা তাহারা; তাহাদের মোরা ক্ষমিব হে প্রাণপণে।
কিন্তু এ দেশে রক্ত-পিপাসু দস্যু যে সব আছে,—
যা’রা ‘বুইয়ে’র পাতকের ভাগী—ফিরে তারি পাছে পাছে,
শার্দ্দূল সম যা’রা নির্ম্মম, নাহি প্রাণে মমতাই—
আপন মায়ের বুক চিরে যা’রা তাহাদের ক্ষমা নাই।
ধর হাতিয়ার ফ্রান্সের লোক.........ইত্যাদি।

আমরা পশিব একে একে একে কর্ম্মক্ষেত্র মাঝে,
যখন মোদের জ্যেষ্ঠের দল দেখিব বিরত কাজে;
পশিব ক্ষেত্রে, দেখিব তাঁদের দেহ-অবশেষ ধূলি,
গুণের চিহ্ণ দেখিব চক্ষে দেখিব কীর্ত্তি গুলি।
তাঁহাদের ধারা রাখিব আমরা—শুধু বেঁচে থাকা নয়;
তাঁদের মতন সমাধি যেন গো আমা-সবাকার হয়।
আমাদের হ’বে সেই গৌরব তুলনা যাহার নাই,
অত্যাচারের রুধিবারে গতি না হয় মরিব ভাই।
ধর হাতিয়ার ফ্রান্সের লোক········ইত্যাদি।

জন্মভূমির নির্ম্মল প্রেম! ওগো চির-সম্বল!
তোমার শত্রু নাশে উদ্যত এ বাহুতে দেহ বল।

ওগো স্বাধীনতা! প্রিয় স্বাধীনতা! হও ত্বরা পরকাশ!
আমাদের সাথে মিলিয়া আপন শত্রু করহ নাশ;
দাঁড়াও আসিয়া আমাদের এই জয় পতাকার ছায়,
ভৈরব রবে উচ্চার আমি তোমার সে ঘোষণায়!
হিংসায় জ্বলে যেন মরে যায় তোমার শত্রুচয়,
আমা-সবাকার গৌরব দেখি’—তোমার দেখিয়া জয়।
ধর হাতিয়ার ফ্রান্সের লোক! বাঁধ দল! বাঁধ দল!
চল্‌রে চল্‌রে চল্!
ঘৃণ্য শোণিতে হ’বে কি সিক্ত মোদের ক্ষেত্রতল!

রুজে দেলিল্।