মতিয়া বিবি

DETECTIVE STORIES, No 133, দারোগার দপ্তর ১৩৩ সংখ্যা।


মতিয়া বিবি।

অর্থাৎ মতিয়া নামক জনৈক বিবিজানের

লাসের অদ্ভূত অন্তর্দ্ধান!

শ্রীপ্রিয়নাথ মুখােপাধ্যায় প্রণীত

১৬২ নং বহুবাজার ষ্ট্রীট,

“দারােগার দপ্তর” কার্য্যালয় হইতে

শ্রীউপেন্দ্রভূষণ চৌধুরী কর্ত্তৃক প্রকাশিত।

All Rights Reserved.

দ্বাদশ বর্ষ।]

সন ১৩১১ সাল।

[বৈশাখ।


PRINTED BY B. H. PAUL, at the

HINDU DHARMA PRESS.

70, Aheereetola Street, Calcutta.


প্রকাশকের নিবেদন।

 দারোগার দপ্তর একাদশ বৎসর অতিক্রম করিয়া আজ দ্বাদশ বৎসরে পদার্পণ করিল। এই বঙ্গদেশে একখানি বাঙ্গালা মাসিক পত্রিকা বাঙালি গাঠকগণ কর্ত্তৃক বিশেষরূপ সমাদৃত হইয়া এত দিবস পর্য্যন্ত যে সমভাবে চলিয়া আসিতেছে, ইহা অপেক্ষা দারোগার দপ্তরের ন্যায় মাসিক পত্রিকার বিশেষ গৌরব আর কি হইতে পারে? দারোগার দপ্তর যে তাহার পাঠকগণের হৃদয়কে বিশেষ রূপে আকৃষ্ট করিতে পারিয়াছে, এই দীর্ঘজীবনই তাহার জাজ্বল্যমান প্রমাণ। ইহা অপেক্ষা অধিক প্রমাণ প্রয়োগ করিবার চেষ্টা করা একেবারে নিষ্প্রয়োজন। দারোগার দপ্তরের গ্রাহক-সংখ্যা এখন-সীমাবদ্ধ; কিন্তু বলিতে কি, সরকারি কার্যের গুরুতার বহন করিয়া তাহার উপর যদি প্রিয়নাথ বাবুকে এই কার্য্য সম্পন্ন করিতে না হইত, অর্থাৎ তাঁহার সমস্ত সময় যদি তিনি এই দারোগার দপ্তরের উপর নির্ভর করিতে পারিতেন, তাহা হইলে আমি নিশ্চয় বলিতে পারি, এই দারোগার দপ্তর অসংখ্য পাঠকের মনস্তুষ্টি করিত। যে কোন প্রদেশে বা যে কোন ভাষায় মাসিক্ পত্রিকা বাহির হইয়া থাকে, তাহাতে ভিন্ন ভিন্ন লেখকের লেখনি-প্রসূত ভিন্ন ভিন্ন প্রবন্ধ সকল স্থান পায়; কিন্ত দারোগার দপ্তরে কেবল প্রিয়নাথ বাবু ভিন্ন অপর কোন লেখকের কোন প্রবন্ধ স্থান পায় না বলিয়াই, সময় সময় পত্রিকা বাহির হইতে বিলম্ব হয়। মাসিক পত্রিকা ঠিক মাসে মাসে বাহির না হইলে বিশেষ দোষের বিষয় সতা, কিন্তু বর্ত্তমান ক্ষেত্রে পাঠকগণ বিশেষ অনুগ্রহ করিয়া সেই দোষের উপর ততটা লক্ষ্য করেন না; ইহাও লেখক ও কার্য্যাধ্যক্ষের পক্ষে কম সৌভাগ্যের বিষয় নহে। সে যাহা হউক, মাসিক পত্রিকা নিয়মিতরূপে বাহির করিতে হইলে লেখকের কর্ত্তব্য যে,—প্রবন্ধটী যাহাতে প্রত্যেক মাসে নিয়মিতরূপে লেখা হয়, তাহার দিকে বিশেষরূপে দৃষ্টি রাখা ও প্রকাশকের কর্ত্তব্য,—যাহাতে প্রবন্ধটী ঠিক সময়মত প্রকাশিত হয়, তাহার পক্ষে বিশেষরূপে সচেষ্ট থাকা। কিন্তু গত বৎসর লেখক ও প্রকাশক কেহই তাঁহাদিগের কর্ত্তব্য কর্ম্ম ঠিক প্রতিপালন করিয়া উঠিতে পারেন নাই বলিয়া, আমরা গ্রাহকগণের নিকট বিশেষরূপে লজ্জিত আছি ও যাহাতে এক মাসের দপ্তর অপর মাসে গ্রাহকগণের হস্তগত না হয়, তাহার নিমিত্তই এক বৎসর বাদ দিলাম, উহা কেবল কাগজ কলম বাদ হইল মাত্র। গ্রাহকগণের উহাতে কিছুমাত্র ক্ষতি বৃদ্ধি নাই, সংখ্যায় সংখ্যায় যে নম্বরটী লেখা থাকে, তাহারও কেনিরূপ ব্যতিক্রম হয় নাই। কেবলমাত্র কার্য্যের সুবিধার জন্য ও বিলম্বে দারোগার দপ্তর বাহির হইতেছে, ইহা গ্রাহকগণ যাহাতে আর বলিতে না পারেন, কেবল তাহারই জন্য আমরা ঐ উপায় অবলম্বন করিলাম। কিন্তু এবার আমাদিগের সম্পূর্ণ ভরসা আছে যে, দারোগার দপ্তর বাহির হইতে সেইরূপ বিল আর ঘটবে না। প্রিয়নাথ বাবু আমাকে বলিয়াছেন যে, তাঁহার উপর সরকারি-কার্য্যের যতই গুরুভার কেন ন্যস্ত হউক না, তাহারই মধ্যে যেরূপে হয়, মাসে মাসে তিনি একটা প্রবন্ধ লিখিয়া দিবেন, ও প্রকাশকও ঠিক সময়মত তাহা প্রকাশিত করিয়া গ্রাহকগণের মনস্তুষ্টি করিতে রীতিমত চেষ্টা করিবেন। এরূপ অবস্থায় দারোগার দপ্তর বাহির হইতে যে বিলম্ব হইবে, তাহা আর আমার বোধ হয় না। এখন হইতে আশা করি, গ্রাহকগণ নিয়মিতরূপ মাসে মাসে দারোগার দপ্তর প্রাপ্ত হইবেন। দারোগার দপ্তর বাহির হইতে যাহাতে বিলম্ব না হয়, তাহার নিমিত্ত আরও এক উপায় অবলম্বন করিয়াছি। ইহার মধ্যেই ভাদ্রমাস পর্য্যন্ত দারোগার দপ্তর প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি, কিন্তু উহা এত অগ্রে একেবারে গ্রাহকগণকে না দিয়া প্রত্যেক মাসের ঠিক সময়ে পাঠাইয়া দিব। এ দিকে অবশিষ্ট সংখ্যাগুলিও ক্রমে প্রস্তুত করিয়া রাখিব।

 গ্রাহকগণ যেরূপ ভাবে দারোগার দপ্তরের আদর করিয়া থাকেন, তাহাতে দারোগার দপ্তরের গ্রাহকগণকে কিছুমাত্র উপহার দেওয়ার প্রয়োজন নাই বলিয়াই আমার বিশ্বাস। কিন্তু যে নিয়ম বহদিবস হইতে চলিয়া আসিতেছে, সেই নিয়মের হঠাৎ পরিবর্তন করাও একেবারে অকর্ত্তব্য। সুতরাং এবারও আমাদিগের সাধ্যমত উপহার গ্রাহকগণকে প্রদত্ত হইবে। উপহারের পুস্তক কেবলমাত্র দুইখানি হইলেও উহা পাঠে যে গ্রাহকগণ বিশেষরূপ সন্তোষ লাভ করিবেন, তাহা আমাকে বলিয়া দিতে হইবে না, পাঠ করিলেই অবগত হইতে পারিবেন। উপহারের বিস্তৃত বিবরণ বিজ্ঞাপন স্তম্ভে প্রকাশিত হইয়াছে।

 দারোগার দপ্তরের গ্রাহকগণ সম্বন্ধে এইস্থানে একটী কথা বলা বোধ হয়, বিশেষরূপে আবশ্যক হইয়া পড়িয়াছে। দারোগার দপ্তর মাসে মাসে প্রেরিত হইলে ও তাহার কোন সংখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছেন কি না, তাহার কিছুই তাঁহারা প্রথমে বলেন না; অনেক সময় তাঁহাদিগের অনবধানে অনেক সংখ্যা হারাইয়াও গিয়া থাকে। কিন্ত যখন বৎসর শেষ হয়, সেই সময় তাঁহারা সংখ্যাগুলি মিলাইয়া দেখেন ও অনেকগুলি সংখ্যা যখন প্রাপ্ত হন না, তখন আমাদিগকে পত্র লিখিয়া জানান যে, ঐ সকল সংখ্যা তাঁহারা প্রাপ্ত হন নাই। আমরাও সাধ্যমত তাহাদিগকে ঐ সকল সংখ্যাগুলির মধ্যে যতদূর পারি, পুনরায় প্রেরণ করিয়া থাকি। ইহাতে আমাদিগের যে কতদূর ক্ষতি হয়, তাহার দিকে গ্রাহকগণের একটু বিশেষ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন, ইহাই আমার অনুরোধ।

শ্রী উপেন্দ্রভূষণ চৌধুরী।
কার্য্যাধ্যক্ষ।



এই লেখাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত কারণ এটি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারির পূর্বে প্রকাশিত।


লেখক ১৯৪৭ সালে মারা গেছেন, তাই এই লেখাটি সেই সমস্ত দেশে পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত যেখানে কপিরাইট লেখকের মৃত্যুর ৭০ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এই রচনাটি সেই সমস্ত দেশেও পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্গত হতে পারে যেখানে নিজ দেশে প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রলম্বিত কপিরাইট থাকলেও বিদেশী রচনার জন্য স্বল্প সময়ের নিয়ম প্রযোজ্য হয়।